ইমাম গাজ্জালীর মরণের আগে ও পরে

⭐ 4.8 👁 63 📅 April 29, 2026
☰ Chapters
ⓘ Summary

ইমাম গাজ্জালীর মরণের আগে ও পরে – মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ

দি তাজ পাবলিশিং হাউস

প্রকাশনায় : আলহাজ্জ্ব মোঃ গিয়াসউদ্দিন ভূঁইয়া
বাংলাদেশ তাজ কোম্পানী লিঃ

পহেলা প্রকাশ : আগস্ট : ১৯৬০ ইং
পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত – পঞ্চম প্রকাশ : ১৯৯৫ ইং

.

উৎসর্গ

জান্নাতবাসী পিতা মরহুম মৌলভী আবদুচ্ছত্তার
এবং
স্নেহময়ী জননী
মরহুমা হালিমা খাতুনের
পবিত্র আত্মার উদেশ্যে

.

স্মরণীয়

যাঁর উদ্দীপনা ও দোয়া-ইজাজতে অত্র পুস্তকখানা লিখা- সেই মহাপ্রাণ, আমার বুগর্জ শ্বশুর পীর-মুর্শিদ শর্ষিণার হযরত মেজো পীর ও মুজাদ্দিদ

হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ ছিদ্দিক ছাহেব কেবলা বাংলা ১৩৯৫ সনের ১৪ই মাঘ বেলা ১০-৩০ মিনিটে পটুয়াখালীর গলাচিপায় মহা প্ৰভু আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন-ইন্তেকাল করেন। সকল পাঠক-পাঠিকা সমীপে আমার আবেদনঃ অত্র পুস্তকখানা পাঠ কালে জান্নাতবাসী পীর ছাহেবের রূহের মাগফিরাত কল্পে দোওয়া করিবেন।

— শাহ ওয়ালীউল্লাহ
১৪ই মাঘ, ১৩৯৬ বাংলা

.

আমাদের কথা

উনিশ শ’ ষাট সালের কথা। আজ হতে দীর্ঘ বত্রিশ বছর আগে ‘মরণের আগে ও পরে’ আত্মপ্রকাশ করে পাঠকমণ্ডলীর হাতে পৌঁছে। পাকগণ খুশী, আমরাও ধন্য। হলে হবে কি! এ দীর্ঘদিন পুস্তকখানা প্রকাশের দায়িত্ব ছিল ঢাকার ‘বাংলাদেশ বুক কর্পোরেশন’-এর হাতে। অনিচ্ছায় হয়ে থাকলেও অঙ্গ-সজ্জা এবং ছাপা ইত্যাদির গাফলতির কারণে পুস্তকখানা পাঠকদের আনন্দ দিতে সমর্থ হয় নাই সেরূপ- সমর্থ হয় নাই তাঁদের চাহিদা পূরণ করতে। এ নিয়ে মৌখিক ও পত্র দ্বারা অনেকে অনুযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু করার কিছু ছিল না আমাদের।

এবারের প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছি আমরা নিজেরাই। সে হিসেবে তাড়াহুড়া করে পাঠকমণ্ডলীর চাহিদা অনুযায়ী কতকগুলো বিষয় সংযোজন করেছি-পরিমার্জনা করেছি অনেক ক্ষেত্রে। পুস্তকখানার কলেবর এতে যদিও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবু নেই নাই কার্পণ্যতার প্রশ্রয়। এর পরও পাঠকমণ্ডলীর সৃষ্ট নতুন চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রাখা হবে সর্বাগ্রে।

‘মরণের আগে ও পরে’ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে এর চাহিদার ব্যাপকতা দেখে ব্যবসায়িক কিসিমের কতক প্রকাশক ভায়েরা এর অনুকরণ অনুসরণ, এমনকি হুবহু নাম হাকিয়েও কিছু সংখ্যক বই প্রকাশ করেছেন। ‘নকল আসলের সমমানে দাঁড়াতে অক্ষম’ এ চির সত্যটুকুর প্রতি অবহেলা করতে তাঁরা কসুর করেন নাই।

সম্প্রতি কোন একটি অজ্ঞাতনামা তথাকথিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘মরণের আগে ও পরে’ হুবহু নাম দিয়ে একখানা পুস্তক প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন নাই। অর্থ লোভ তাঁদের অন্ধ করেছে এমনিতর। একজন প্রকাশক পূর্ব-প্রকাশিত একখানা পুস্তকের হুবহু নাম দিয়ে পুস্তক প্রকাশ করা প্রকাশনা আইনে কতটা অয়ার্জনীয় ও দণ্ডনীয় অপরাধ, তার প্রতি আদৌ খেয়াল করেন নাই তারা। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা ব্যতীত এ জঘন্য আচরণকে আর কি বলা যেতে পারে?

আমরা কিন্তু কাউকে কিছু বলি নাই এখনো। কারণ, আমাদের বিশ্বাস ‘নকল আর আসল? পাঠকমণ্ডলীই নিজ গুণে চিনে নিবেন আর যারা চিনতে পারবেন না-তাঁদের অনুরোধ করবো, তাঁরা যেন আসল ও নকল বাছাই করে নেন-এ দায়িত্ব তাঁদের হাতে তুলে দিলাম। আমাদের কাজ সাবধান করা।

ঢাকার ‘আব্বাছিয়া লাইব্রেরী, আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান-এই প্রতিষ্ঠান হতে নতুন আঙ্গিকের পুস্তকখানা প্রথম প্রকাশ করা গেল। প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক ও ব্যবস্থাপক জনাব মোস্তফা ছাহেবের উৎসাহ ও উদ্দীপনাই আমাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে অনেকখানি। এ কারণে তাকে মোবারকবাদ না জানিয়ে উপায় নেই।

কিন্তু এবারের পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত চতুর্দশ প্রকাশনার এককভাবে দায়িত্ব দেয়া গেল ঢাকার ‘দি তাজ কোম্পানী লিঃ’ কে। এ সাহসিকতার ধন্যবাদ পাওয়ার উপযোগী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আলহাজ্জ মৌলভী গিয়াস উদ্দীন ভূঁইয়া ছাহেব এবং তাঁর সহযোগীবৃন্দ।

অতঃপর পাঠকমণ্ডলীর যে কোন পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

ইতি
আরজ ওজার
শাহ ওয়ালীউল্লাহ
শর্ষিণা দরবার শরীফ,
পোঃ দারুচ্ছুন্নাত, পিরোজপুর (বরিশাল)
জানুয়ারী ১৯৯১ ইং।

.

পীরে কামেল হাদিয়ে জামান শর্ষিণা শরীফের আ’লা হজরত পীর ছাহেব কেবলার

দোয়া ও ইজাজত

আল-হামদুলিল্লাহ! আমার জামাতা মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ কৃত ‘মরণের আগে ও পরে’ যুগ-মানসের চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নূতন সংস্করণে আত্ম-প্রকাশ করিয়াছে দেখিয়া খুশী হইলাম। পুস্তকে যা কিছু সংগ্রহ হইয়াছে, তা শুধু সাধারণ পাঠকই নহে, যারা ওয়াজ- নছীহত করিয়া মানুষকে জান কবজ, কবর আজাব, কেয়ামত বেহেশত ও দোজখ সম্পর্কে বুঝাইয়া থাকেন, সে সকল ওয়ায়েজীনবৃন্দও ইহাতে যথেষ্ট উপাদান পাইতে পারেন।

ওয়াজ-নছীহত শ্রবণ এবং বিভিন্ন পুস্তক পাঠ করিয়া দীনের বিষয় অবগত হইলেই রূহানী তরাক্কী হাছিল হয় না— হাছিল হয় সে অনুযায়ী আমল করিলে ও অন্যান্যদের আমল করাইতে চেষ্টা করিলে। তাই সকল দীনদার ভাই মুসলমান, আমার মুহিব্বীন ও মুরীদগণ অত্র পুস্তক খানা পাঠ করিয়া নিজেদের আত্ম-শুদ্ধি করিবেন। আমি সকলের জন্য দোয়া করি। আমীন!!

স্বাক্ষর—
শাহ মোহাম্মদ ছিদ্দিক
(পীর ছাহেব, শর্ষিণা শরীফ)

.

মরণের আগে ও পরে

হামদ-না’ত

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। তিনি আসমান জমীন, মানব-দানব, চন্দ্র-সূর্য, জ্বিন-ফেরেশতা, বৃক্ষ-লতা এক কথায় আঠার হাজার মাখলুকাত মাত্ৰ ‘কুন’ (হও) শব্দ দ্বারা পয়দা করিয়াছেন। তন্মধ্যে মানব জাতিই শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানব জাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিরূপে সৃষ্টি করিয়াছি।’

তিনি আমাদের দীন-দুনিয়ার শান্তির জন্য পবিত্র ইসলাম ধর্ম মনোনীত করিয়াছেন এবং প্রেরণ করিয়াছেন শেষনবী হযরত মোহাম্মদ (দঃ)-কে ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী বাহকরূপে।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের মৃত্যুর পরে তাঁর অসীম কৃপায় কবর, হাশর ও পুলসেরাতের ভয়াবহ বিপদ হইতে রক্ষা করিবেন এবং মহাহাশর প্রান্তরে প্রচণ্ড সূর্যের উত্তপ্ত স্থির কিরণ কালে আমাদেরকে তাঁর পবিত্র আরশে আজীমের ছায়াতলে স্থান দিবেন, আর যে মা’বুদ আমাদিগকে হাশর প্রান্তরে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় নিজ তত্ত্বাবধানে পানাহার করাইবেন এবং আমাদের কতক ধর্মভীরুদের বিনা হিসাবে বেহেশতে প্রবেশ করাইবেন। অতএব, আমরা একান্ত সেই মহা করুণাময় ও দয়াশীল আল্লাহ পাকের হামদ বা প্রশংসা করিতেছি।

ইসলাম ধর্মের বাহক হজরত মোহাম্মদ (দঃ)। তিনি আমাদিগকে ইসলাম ধর্মের আদেশ-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জ্ঞাত করাইয়া আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াত দিয়াছেন। তিনি জন্মগ্রহণ না করিলে ইহজগতে কিছুই সৃষ্টি হইত না।

আল্লাহ তা’আলা বলেন-

হে মোহাম্মদ (ছঃ)! যদি তোমাকে সৃষ্টি না করিতাম, তবে আকাশ ও পৃথিবীতে কিছুই সৃষ্টি করিতাম না। – হাদীছে কুদসী।

এ ধরায় না হইলে আপনার সৃজন,
করিতাম না পয়দা আকাশ-ভুবন।

আর তিনিই রোজ হাশরে পাপী-তাপী সকল উম্মতকে ইলাহীর আদালতে সুপারিশ করিয়া বেহেশতে প্রবেশ করাইবেন।

অতএব, যে নবী আমাদের প্রতি এত দয়াবান হইবেন, আমরা তাঁরই না’ত বা প্রশংসা করিতেছি।