সবচেয়ে রহস্যময় পাঁচটি স্থান

পৃথিবীতে অনেক রহস্যময় জায়গায় কথা আমরা প্রতিনিয়ত শুনে থাকি, চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সেরকম সবচেয়ে বেশী রহস্যময় পাঁচটি জায়গা সম্পর্কে।

এরিয়া- ৫১

পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি দুর্লঙ্ঘ জায়গাগুলোর মধ্যে প্রথম কাতারেই থাকবে আমেরিকার নেভাডা অঙ্গরাজ্যের সামরিক স্থাপনা ‘এরিয়া- ৫১’। এই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুর্ভেদ্য বেষ্টনীতে ঘেরা এ ঘাটির প্রবেশপথে লেখা আছে “সংরক্ষিত এলাকার দিকে প্রবেশের চেষ্টা করলেই তাকে গুলি করা হবে”। তাই এই জায়গাটি নিয়েই বিশ্ববাসীর সবচেয়ে বেশি কৌতূহল। কী আছে এর ভেতর? কীইবা এমন কাজ করা হয় এই ঘাঁটিতে, যার দরুন সেখানকার তালিকাভুক্ত কর্মীদের ছাড়া আর কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয় না? এমন প্রশ্ন বিশ্ববাসীর মনে ঘুরপাক খাবে এটাই যেন স্বাভাবিক । ‘এরিয়া ৫১’ এমন এক সামরিক ঘাটি, যেখানকার কর্মীরা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে দায়বদ্ধ।

এরিয়া ৫১-এর ভেতর আজ পর্যন্ত বেসামরিক কেউ ঢুকতে পারেননি। যদি কেউ ঢুকেও থাকেন, তাহলে তিনি ফিরে এসেছেন লাশ হয়ে । এরিয়া ৫১ এলাকাটিকে আমেরিকার সরকার এতটাই গোপন করে রেখেছিল যে, আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন এটির সম্পর্কে সোভিয়েত উইনিয়নের বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও এর অস্তিত্ব স্বীকার করেনি ওয়াশিংটন। অবশেষে ১৮ই আগষ্ট ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো আমেরিকার সরকার স্বীকার করে নেয় যে, হ্যাঁ এই এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্ব আছে। তারা স্বীকার করে যে আমেরিকার সরকার দেশটির এক গোপন সামরিক পরীক্ষার স্থান হিসেবে ‘এরিয়া ৫১’ নামক জায়গাটি ব্যবহার করে। এই জায়গাটিকে নিয়ে রয়েছে অনেক ধরনের জল্পনা আর বিতর্কও। আশেপাশের এলাকার অনেক অধিবাসীই বলে থাকেন এই স্থানটিতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের কাল্পনিক যান ফ্লাইং সসার উড়তে দেখা যায়। এছাড়া চাঁদে যাওয়ার যে দৃশ্য টেলিভিশনে দেখানো হয়েছিল সেটিও এই এরিয়া-৫১ এ ধারণ করা হয়েছিল বলে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় এসব বিতর্কের কোনো কূল-কিনারা আজপর্যন্ত হয়নি।

ইসি গ্রান্ড মন্দির
এ জায়গাটি জাপানে অবস্থিত। এটি জাপানের সবচেয়ে গোপনীয় এবং পবিত্র জায়গা। ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪ সালে ইসি গ্রান্ড মন্দিরটি তৈরি করা হয়। সূর্যের দেবী আমাতেরাসু’র উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরে আজপর্যন্ত এখানে জাপানের রাজপরিবার এবং ধর্মযাজক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। প্রতি ২০ বছর পর পর এ মন্দিরটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়। ইতিহাসবিদদের ধারণা এখানে জাপানিজ সাম্রাজ্যের মূল্যবান এবং হাজার হাজার বছরের পুরনো নথিপত্র লুকানো আছে যা বিশ্ববাসীর কাছে একেবারেই অজানা। জাপানের রূপকথায় বহুল প্রচলিত ‘পবিত্র আয়না’ এই মন্দিরেই আছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু এই মন্দিরে কারো প্রবেশাধিকার না থাকায় এই জনশ্রুতির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জাপানের রাজপরিবার থেকেও কখনো এই পবিত্র আয়না সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আর তাই আজও অমীমাংসিতই আছে পবিত্র আয়নার রহস্য।

ডিজনিল্যান্ড

বিশ্বের অন্যতম সেরা বিনোদন স্পট ও অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে ডিজনিল্যান্ডের রয়েছে আলাদা একটি পরিচয়। শুধু বিনোদনের জন্যই পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে প্রায় প্রতিদিন বহু মানুষ ছুটে আসেন ডিজনিল্যান্ডে। মূল ডিজনিল্যান্ড সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও এখানকার একটি স্থান খুবই গোপন। এখানে চাইলেই কেউ ঢুকতে পারে না। পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও রহস্যময় স্থানের তালিকায় উঠে আসা একমাত্র ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের স্থান এটি। বাকিগুলোর সঙ্গে কোনো না কোনো দেশ বা কোনো না কোনো গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। তবে ডিজনিল্যান্ডের নিউ অরলিন্স স্কয়ারে অবস্থিত ক্লাব ৩৩ নেহায়েতই একটি ব্যক্তিগত ক্লাব। ওয়াল্ট ডিজনি নিজেই এর প্রতিষ্ঠাতা। তার খুব প্রিয় এই ক্লাবটি ভীষণভাবে সংরক্ষিত করে রাখা হয়। এখানে প্রায় সবসময় মদ বিক্রি করা হয়। তবে কাগজে-কলমে কোথাও মদের কোনো উল্লেখ নেই। দাপ্তরিকভাবে মদের ব্যাপারটিকে একেবারেই চেপে যাওয়া হয়েছে। এই ক্লাবের সদস্য হওয়াটাও চাট্টিখানি কথা নয়। আপনি এখনই যদি সদস্য হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলেই আপনাকে প্রচুর টাকা গুনতে হবে। খরচের পরিমাণ হবে ১০ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। আর এখানকার বার্ষিক চাঁদা ৩২৭৫ থেকে ৬১০০ মার্কিন ডলার। আর টাকা গুনলেই যে সদস্যপদ মিলবে সেটাও ঠিক নয়। কারণ আজকে আবেদন করলে সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে যদি রেজাল্ট পজিটিভ হয়, তাহলেও এখানকার সদস্য হতে প্রায় ১৪ বছর সময় লাগবে। জনসাধারণ ও অন্যদের জন্য এই জায়গাটিতে প্রবেশ একেবারেই নিষেধ। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখানে সুনির্দিষ্ট কাজ এবং সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ব্যতিরেকে প্রবেশ করতে পারে না।

ভ্যাটিকান
পৃথিবীর ইতিহাসে অনেকগুলো পটপরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনা প্রবাহের সাক্ষী পবিত্র নগররাষ্ট্র ভ্যাটিকান। আর ভ্যাটিকান সিটির ভেতর সবচেয়ে রহস্যের জায়গাটি হলো ভ্যাটিকান সিটি আর্কাইভ বা সংগ্রহশালা। জায়গাটিকে বলা হয়, ‘স্টোর হাউস অব সিক্রেট’। অর্থাৎ গোপনীয়তার সংগ্রহশালা। এই জায়গাটিতে সাধারণ মানুষ তো নয়ই, ভ্যাটিকান সিটির পণ্ডিতরাও ঢোকার অনুমতি পান না। খুব কমসংখ্যক পণ্ডিতেরই এখানে ঢোকার সৌভাগ্য হয় বা হয়েছে। তাও পোপের অনুমতি ছাড়া সেটি একেবারেই অসম্ভব। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই জায়গাটিকে পবিত্রতার দিক থেকেও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে প্রায় ৮৪ হাজার বই আছে আর এই জায়গাটি প্রায় ৮৪ কি.মি দীর্ঘ। ধারণা করা হয় খ্রিস্টান, মিশনারি, প্যাগান আরও অনেক ধর্ম আর মতবাদের অনেক গোপন ডকুমেন্ট এখানে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই গ্রন্থাগারে প্রবেশের কোনোই অধিকার নেই।

মস্কো মেট্রো

বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় ও গোপনীয় শহর হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার মস্কো মেট্রো ২। এটি কেন রহস্যময় ও গোপনীয় শহর সে সর্ম্পকে সাধারণ মানুষের কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। স্পষ্ট করে বললে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি। পুরো একটি শহর অথচ কারও জানা নেই, এখানে কারা থাকে, কী করে অথবা দেখতে কেমন ইত্যাদি। তবে স্থানটির অস্তিত্ব মোটেও স্বীকার করে না রাশিয়ান সরকার। এ স্থানটি নিয়ে রাশিয়ার চরম গোপনীয়তা অনেককেই কৌতুহলী করে তোলে। ধারণা করা হয় রাশিয়ার গোপন তৎপরতাগুলোর অনেক কিছুই এখান থেকে পরিচালিত হয়। তাই রাশিয়ান সরকার কোনোমতেই চাইবে না পৃথিবীর কাছে সেগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ুক। এ কারণে পুরো জায়গাটিকে কোনো প্রকার স্বীকৃতি না দিয়ে অস্তিত্বহীন করে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হয় এই আন্ডারওয়ার্ল্ড সিটি তৈরি হয়েছিল স্টালিনের আমলে। আর এখান থেকেই রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। আন্ডারওয়ার্ল্ড সিটির অস্তিত্বে বিশ্বাস করে এমন মানুষদের দাবি, এই আন্ডারওয়ার্ল্ড সিটি ক্রেমলিনের সঙ্গে এফএসবি হেডকোয়ার্টারের সংযোগ স্থাপন করে আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top